5:23 am - Friday January 19, 2018

রেলের নতুন কালো বিড়াল কে জানলে অবাক হবেন?

রেলের নতুন কালো বিড়ালের নাম এখনো সুনিদ্দিষ্ট করে বলেননি কেউ, তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ রেলে খালাসি কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে রেলওয়েতে আবার ‘কালো বিড়াল’ ভর করেছে দাবি করেছেন সরকার-সমর্থিত রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ।

একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেলমন্ত্রী নিজে রেলের নতুন কালো বিড়াল। বিশাল বাণিজ্যের যে চক মন্ত্রী এঁকেছেন সারাদেশে, তা আগের কালো বিড়ালকেও হার মানাবে। সেই বিড়াল মারা পড়েছে। কিন্তু বিড়ালের বংশ মরেনি।

আরো একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সময়মতো রেলের কালো বিড়াল যদি তাড়ানো না যায়, তাহলে বিড়ালের হাতেই রেল নদীতে গিয়ে পড়বে। মানুষের গায়ে উঠবে।

সংগঠনটির একাধিক শীর্ষ নেতার স্পষ্ট দাবি, রেলওয়েতে ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। রেলপথমন্ত্রীর আশপাশে থাকা লোকজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট এই বাণিজ্যের সাথে জড়িত এবং এরা সবাই রেলমন্ত্রীর অভয়েই এমন কাজ করছে।

মন্ত্রী-সাংসদসহ দলীয় নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে খালাসি পদে লোক নিয়োগ দিতে ‘চাপ’ থাকার কথা স্বীকার করেছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম)। নিজ বিভাগের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই কথা বলেছেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় রেল ভবনে ‘অপারেশনাল রিভিউ’ বৈঠকে খালাসি পদে নিয়োগ অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত কর্মী রেলওয়েতে খালাসি নামে পরিচিত। সরকারি বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে (২০তম গ্রেড) তাঁরা অবস্থান করেন। খালাসিরা সরকারি চাকরিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবেও পরিচিত।

এই পদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। রেলওয়েতে ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এখন। এই পদে নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মামলার কারণে এত দিন নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা একবাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, রেলের মহাপরিচালককে অবহিত করে, মন্ত্রী জিএমকে নিজেদের লোকজন নিয়োগ দিতে বলেছেন। মন্ত্রী, এমপি এবং দলীয় লোকজনের অনেক সুপারিশ আছে। এসব লোককে নিয়োগ দিতে হবে।

জিএম আরও বলেছিলেন, রেলের একজন কর্মচারী কিছুদিন আগে মারা গেছেন। ওই কর্মচারীর পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জিএম। কিন্তু মন্ত্রী সেটিও মানতে চাইছেন না। এ সময় তবে রেলের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন এ নিয়ে বৈঠকে কোনো মন্তব্য করেননি।

খালাসি নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। ২৭ ডিসেম্বরের বৈঠকে তিনি পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের অসহায়ত্ব প্রকাশ করার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যরাতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা এবং তৎকালীন রেলমন্ত্রী (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একান্ত সচিব ওমর ফারুক ৭০ লাখ টাকার বস্তাসহ ঢাকায় বিজিবির সদর দপ্তরে আটক হন। সেদিন তাঁরা গাড়িতে করে তৎকালীন রেলমন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলেন।

পথে চালক গাড়িটি বিজিবির গেটের ভেতরে নিয়ে যান। অভিযোগ ওঠে, তাঁদের গাড়িতে পাওয়া টাকার বস্তাটি রেলের নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে পাওয়া। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

যদিও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তৎকালীন রেলমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি রেলের কালো বিড়াল খুঁজে বের করবেন। ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে রেলের নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মোট ১৪টি মামলা হয়। পাঁচ বছর কারাগারে থাকার পর তিন মাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।


Filed in: অর্থনীতি
error: Content is protected !!