5:17 am - Friday January 19, 2018

বাসে বেশি ভাড়া নেওয়ার দিন শেষঃ রাজধানীতে সব বাসের ভাড়া নিবে কার্ডে!

ঢাকার মিরপুর কাজীপাড়া থেকে বাসে উঠেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী এনামুল হক। নামবেন আগারগাঁওয়ে। কিন্তু ইতোমধ্যেই মতিঝিলগামী বাসটির হেলপার (ভাড়া আদায়কারী) সৈয়দ আলীর সঙ্গে এনামুল হকের বেধেছে বাগবিতণ্ডা।

আর এই বাগবিতণ্ডার বিষয় ভাড়া নৈরাজ্য। এনামুল হক বলছেন, কাজীপাড়া থেকে বাসে উঠে আমি নামব আগারগাঁও, যেখানে ভাড়া হওয়া উচিত সর্বোচ্চ সাত টাকা সেখানে আমার কাছে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা।

অন্যদিকে বাসের হেলপার সৈয়দ আলী বললেন, আমাদের বাস সিটিং সার্ভিস। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের চেকার আছে। চেকাররা যখন যাত্রী গুনে ওয়ে বিলে স্বাক্ষর করে দেয় এরপর যাত্রী যেখানেই নামুক, তাকে পরবর্তী চেকার স্টপেজের ভাড়া দিতে হবে। এটাই সিটিংয়ের নিয়ম। বাসের হেলপার ও যাত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডার এই চিত্র নিত্য দেখা মেলে পুরো রাজধানীতে সব বাসেই।

এসব বাগবিতণ্ডা বা ভাড়া নৈরাজ্য দূর করার পাশাপাশি গণপরিবহনে যাত্রীদের সহজে ভাড়া পরিশোধের লক্ষ্যে রাজধানীর সব পাবলিক পরিবহনে ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্ডের ব্যবহার কার্যক্রম পরিচালনা করতে কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে এই ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্ডের ব্যবহার শুরু হয়েছে রাজধানীতে চলা বিআরটিসির এসি ও ডিএনসিসির বাস্তবায়িত ঢাকা চাকা বাসে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ এবার রাজধানীতে চলা সব বাসে এই কার্ডের ব্যবহার করতে কাজ করছে।

এ বিষয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব তাড়াতাড়ি কার্যক্রম শুরু করব। র‌্যাপিড পাস কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ভাড়া নৈরাজ্য, হঠাৎ ভাড়া বাড়ানো এসব ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবেন যাত্রীরা। তবে যেহেতু এখানে অনেক রুট, অনেক বাসমালিক সেহেতু এ সেবা চালু করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। আমরা বিভিন্নভাবে বাসমালিকদের সঙ্গে আলাপ করছি, তারা সম্মতি দিলেই খুব শিগগিরই এ সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

র‌্যাপিড কার্ড ব্যবহার বিষয়ে তিনি বলেন, কার্ডের মাধ্যমে পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া দেয়া যাবে। র‌্যাপিড পাস মূলত ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ডের মতো। যাত্রী বাসে ওঠার সময় কার্ডটি বাসে রাখা মেশিনের সঙ্গে পাঞ্চ করলে সবুজ বাতি জ্বলে উঠবে। আবার যাত্রী যখন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নামবেন তখন আবার কার্ড পাঞ্চ করলে নির্ধারিত গন্তব্য অনুযায়ী কার্ড থেকে ভাড়া কেটে নেয়া হবে। সেই কার্ড আবার রিচার্জ করা যাবে। বর্তমানে বিআরটিসির ২৫টি এসি বাস ও ঢাকা-চাকা পরিবহনে এই কার্ড ব্যবহারের সুযোগ আছে। পর্যায়ক্রমে বেসরকারি গণপরিবহনে ব্যবহার বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পাবলিক পরিবহনে র‌্যাপিড পাস কার্ড ব্যবহারের উদ্যোগ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বলেন, পরিবহনে আরও শৃঙ্খলা আনতে আমরাও চাই গণপরিবহনে এমন কার্ডের ব্যবহার হোক। এটা আসলেই ভালো উদ্যোগ। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ যদি গণপরিবহনে র‌্যাপিড পাস কার্ড চালু করতে চায় সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো বাধা নেই।

অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, গণপরিবহনে র‌্যাপিড পাস কার্ড চালু আসলেই একটি ভালো উদ্যোগ। তবে সেখানে প্রতি কিলোমিটারে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেয়া জরুরি। যদি সেখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেয়ার ব্যবস্থা থাকে তবেই এটা কার্যকরী উদ্যোগ হবে। সেই সঙ্গে যাত্রীসাধারণ নানা ভোগান্তি-বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাবেন।

সূত্র : জাগোনিউজ


Filed in: এক্সক্লুসিভ
error: Content is protected !!