5:22 am - Friday January 19, 2018

জানেন কি একদিন মৃত্যুকে জবাই করা হবে!

পৃথিবীর সব বিষয়ে মত-পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে সবাই একমত আর তা হচ্ছে মৃত্যু। প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক সবাইকে এই যাত্রায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। তবে এই যাত্রা কারো জন্যে হয় শুভ যাত্রা আবার কারো জন্যে হয় অশুভ। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’ (সূরা ইমরান: ১৮৫)।

এমনকি মৃত্যুও মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাবে না। মৃত্যুকেই একদিন জবাই দেয়া হবে। মূলত প্রত্যেক জীবের একবারই মৃত্যু হবে। এর পরে আর মৃত্যু হবে না কারণ একবার মৃত্যুর পর এই মৃত্যুকে আর অবশিষ্ট রাখা হবে না। মৃত্যুকে জবাই দেয়া হবে। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে উপস্থিত করা হবে একটি সাদা মেষের আকারে।

আবূ কুরায়ব অধিক বর্ণনা করেন, অতঃপর তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে দাঁড় করানো হবে। এরপর উভয়ই অবশিষ্ট হাদীস একই রকম বর্ণনা করেছেন। তখন কেউ বলবে, হে জান্নাতীগণ! তোমরা কি একে চিনো? তখন তারা মাথা তুলে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর বলা হবে, হে জাহান্নামীগণ! তোমরা কি একে চিনো? তখন তারা মাথা তুলে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ, এতো মৃত্যু। অতঃপর আদেশ দেয়া হবে এবং উহাকে যবাই করা হবে।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানে থাকবে। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল (এখানেই থাকবে)। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, ‘তুমি তাদেরকে সতর্ক করে দাও-পরিতাপের দিবস সমন্ধে, যখন সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। এখন তারা গাফিল এবং তারা বিশ্বাস করে না।’ এ সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত দ্বারা দুনিয়ার প্রতি ইংগিত করলেন। মুসলিম হাদীস নং ৬৯১৮

এই মৃত্যু এমন একটা জিনিস যা থেকে কেউ পালিয়ে বাঁচতে পারেনি এমনকি পারবেও না। যুগে যুগে অনেক মানুষ এসেছে। অনেক প্রভাবশালী শাষক অহংকার করে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও কেউ মৃত্যু নিয়ে পালিয়ে বাঁচতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের সেখানে এসেই পাকড়াও করবে। যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরেও অবস্থান করো তবুও’ (সূরা নিসা : ৭৮)। অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করেছ, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখোমুখি হবে’ (সূরা জুমআ : ৮)।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তায়ালা কাউকে অবকাশ দেবেন না’ (সূরা মুনাফিকুন : ১১)।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘এ মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃজন করেছি, এতেই তোমাদের ফিরিয়ে দিবো এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদের উঠাইব’ (সূরা ত্বাহা : ৫৫)।

রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পার্থিব সুখ-সম্পদ ও স্বাদ ধ্বংসকারী মৃত্যুকে খুব বেশি করে স্মরণ করো’ (তিরমিজি শরিফ)।

নবীজী আরো ইরশাদ করেন, ‘ওই ব্যক্তি সবচেয়ে বুদ্ধিমান, যে মৃত্যুকে সর্বাধিক স্মরণ করে এবং সেজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করে’ (ইবনে মাজাহ)।

তাই আসুন আমরা মৃত্যুকে স্মরণ করে আমাদের দুনিয়ার জিন্দেগীকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে দুনিয়ায় শান্তি ও পরকালের মুক্তি লাভের জন্য সদা আল্লাহর হুকুম আহকামগুলো মেনে চলি। আল্লাহ্ আমাদের তার দীনের পথে চলার তাওফিক দান করুন।আমিন।


Filed in: ইসলাম ও জীবন
error: Content is protected !!