7:36 am - Tuesday January 16, 2018

প্রথম দিকে খুবই কষ্ট হতো, মনে হতো আত্মহত্যা করি….

বিশ্বে প্রাচীন পেশাগুলোর মধ্যে একটি হলো পতিতাবৃত্তি। ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এই কাজে জড়িয়ে পড়েন নারীরা। ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাগৈতিহাসিক যুগের নারীদের অশুভ মনে করা হতো, সেজন্য সমাজে তাদের কোনো মূল্য ছিল না। দরীদ্র পরিবারের মেয়েদের কেউ বিয়ে করতো না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা যৌনকর্মে জড়িয়ে পড়তো।

সময়ের বিবর্তনে নারীরা আজ সমঅধিকার পেয়েছে। তবে, সেই অভিশপ্ত যৌনকর্ম বা পতিতাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বা আনা হয়নি। আজও সমাজের কর্তা ব্যক্তিদের ইচ্ছানুযায়ী তাদের বাধ্য কারা হচ্ছে ঘৃর্ণিত এই কর্মে।

দেশ ও দেশের বাইরে অনুমোদিত বা অনুমোদনহীন যে কোনো যৌনপল্লীতে খোঁজ নিলেই দেখা যায় অসংখ্য যৌনকর্মী যারা ফাঁদে পড়ে এই কর্মে এসেছেন। তেমনি একজন ভুক্তোভোগী কিশোরী তিথী, যাকে ঢাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে আসে এক প্রতিবেশি। পরে এই যৌনপল্লিতে তাকে বিক্রি করে দেয়।

তার ভাষায়, ‘পাড়াপড়শি তো তাই তার কথায় আসি। শুনছি এহেনে আনার পর খালার (সর্দারনী) কাছে ৩০ হাজার টাকায় বেচে দিয়েছে। যতদিন ওই টাকা শোধা না হবি ততদিন এহেনে থাকতে হবি। প্রথম দিকে খুবই কষ্ট হতো, মনে হতো আত্মহত্যা করি। এখন অবশ্য সহ্য হচ্ছে।’ এভাবেই তিথী তার স্বাভাবিক জীবন থেকে যৌনকর্মী হয়ে উঠার গল্প শোনালেন।

এই আগেও অনেকবারই এমন অভিযান চালিয়ে সরকারী বিভিন্ন বাহিনী, কিন্তু তাতেও থামিনি তরুণীদের পাচারের এমন কাজ। এসবের সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের হাত রয়েছে বলে জানা যায়।

নিশিকন্যা তিথী জানায়, ‘খালাদের সঙ্গে উপর মহলের যোগাযোগ ভালো। তাছাড়া পুলিশেরও তাই চাইলেও কিছু করা যায় না। বাধ্য হয়েই থাকতে হয়।’

এই ফাঁদ কী কখনো বন্ধ হবে না?’ সরকারের কাছে এমনটাই প্রশ্ন রাখে তিথী।


Filed in: জীবনের গল্প
error: Content is protected !!