11:32 am - Tuesday February 20, 2018

দেবাশীষ বিশ্বাসকে মেরে ফেলার হুমকি

দেশের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও চিত্রপরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাসকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন কন্টেন্ট প্রোভাইডর ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাইভ টেকনোলজিসের সিইও তামজীদ-উল-আলম অতুল। এজন্য ৫ ফেব্রুয়ারি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন দেবাশীষ বিশ্বাস।

জানা গেছে, লাইভ এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনায় ‘চল পালাই’ নামে একটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন দেবাশীষ। ছবিটি গত বছরের ৮ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। মুক্তির পর ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পায়নি। কিন্তু প্রযোজনা সংস্থা পরিচালকের কাছে তাদের লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত চান।

ছবি নির্মাণের আগে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ছবি নির্মাণের জন্য পরিচালককে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। চুক্তিতে ছবি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলে প্রযোজকের লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার কোনো কথা উল্লেখ নেই।

দেবাশীষ দাবি করেন, তবুও প্রযোজক তাকে আটকে রেখে ছবির টাকা ফেরত চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি বিকালে ছবির হার্ডডিস্কসহ সব হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিতে রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত লাইভ এন্টারটেইনমেন্টের অফিসে গেলে সেখানে আমাকে আটকে রাখেন লাইভ এন্টারটেইনমেন্টের সিইও তামজীদ-উল-আলম অতুল। আমাকে ছবিটি নির্মাণ বাবদ ৩০ লাখ টাকা ফেরত দিতে বলেন। আমি সেটা কেন করব জানতে চাইলে তিনি আমাকে গালিগালাজ মারধর করেন।

দেবাশীষ বলেন, তাদের টাকা ফেরত না দিলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেন। আমি চুক্তি অনুযায়ী সবকিছু বুঝিয়ে দেয়ার পরও আমার কাছে ছবি নির্মাণের পুরো টাকা দাবি করেন তিনি। সেখান থেকে আমি কোনোরকমভাবে বের হয়ে আসি। পরে আমি সংশ্লিষ্ট থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করি।

চুক্তিতে কী ছবি, ব্যবসা না করলে লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত দিতে হবে, এমন কোনো শর্ত ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে দেবাশীষ বলেন, এমন কোনো কিছুই লেখা ছিল না। তাছাড়া পরিচালক ছবি বানানোর পর সেটা ব্যবসা না করলে প্রযোজককে টাকা ফেরত দিতে হবে, এমন কথা কী কেউ কোনোদিন শুনেছেন? তাদের চুক্তি অনুযায়ী আমি ছবি বানিয়ে দিয়েছি।

মুক্তির আগে সেটা তারা দেখেছেনও। তারপর মুক্তি দিয়েছেন। তখন কিছু বলেননি। অথচ মুক্তির পর ব্যবসা না করায় তারা আমার কাছে টাকা ফেরত চান। এটা কোন ধরনের কথা? আমি এর প্রতিবাদ করলে সেদিন আমাকে নাজেহাল করেন তারা। প্রাণনাশের হুমকি দেন।

দেবাশীষ বিশ্বাসকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার বিষয়ে লাইভ টেকনোলজিসের সিইও তামজীদ-উল আলম অতুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাকে কোনো ধরনের হেনস্তা করিনি বা হুমকিও দিইনি। আমাদের কাছে টাকা ফেরত দেয়ার চুক্তি রয়েছে। সে অনুযায়ী তার কাছে টাকা ফেরত চেয়েছি। আমি বা আমরা তাকে আটকে রাখিনি। তিনি টাকা ফেরত দেবেন বলে বলেছেন।

তাহলে দেবাশীষ কেন থানায় গিয়ে জিডি করল বা আইনি ব্যবস্থা নিল? এ প্রশ্নের জবাবে অতুল বলেন, সেটা তার ব্যাপার। কেন করেছেন, আমি তা জানি না। যেহেতু তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন তাই আমরাও আইনি ব্যবস্থা নেব।

৪ ফেব্রুয়ারির ঘটনা প্রসঙ্গে দেবাশীষ আরও বলেন, সেদিন তারা আমাকে ৩০ লাখ টাকার চেক দিতে বলেন। আমি বলি এটা আমি করতে পারব না। আমার কাছে কোনো টাকা নেই। তাছাড়া কেন আমি এটা করতে যাব? তখন তারা আমাকে প্রেশার ক্রিয়েট করে।

আমাকে দিয়ে জোর করে নতুনভাবে আরও একটি স্ট্যাম্পে সাইন করায়। যদিও সেই স্ট্যাম্পেও অর্থ ফেরত দেয়ার কোনো বিষয় ছিল না। আমি সম্মান এবং জীবন রক্ষার্থে সে সময় ওই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, সে সময় তারা জোর করে আমাকে দিয়ে অনেক কিছু বলিয়ে নিয়েছে। এবং সেটা রেকর্ডও করেছে। জীবন রক্ষার্থে আমি সেসব বলতে বাধ্য হয়েছি। আমি একটা কথা ষ্পষ্ট বলতে চাই, তাদের কাছে যদি টাকা ফেরত দেয়ার দলিল থাকে, তাহলে আমার কাছ থেকে কেন চেক লিখিয়ে নিতে চেয়েছে? আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই এটা করার চেষ্টা করেছে ওরা।-


Filed in: বিনোদন