4:10 pm - Monday February 19, 2018

বিশ্বে মাত্র ১৯টি দেশে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ আছে আর বাংলাদেশের স্থান কততম?

সারা বিশ্বে মাত্র ১৯টি পূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ আছে। আর এই ১৯টি দেশের তালিকায় নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর নাম। এমনকি ওই ১৯টি দেশের সবকটিই আবার ইউরোপ মহাদেশের। সম্প্রতি ব্রিটিশ সাপ্তাহিক ফরম্যাটের সংবাদপত্র দ্য ইকোনোমিস্ট এর ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এর বার্ষিক ডেমোক্রেসি সুচক বা গণতন্ত্র সুচক-এর সর্বশেষ সংস্করনে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

ওই ইনডেক্স বা সুচকে ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী ১৬৭টি দেশের গণতন্ত্রের কী অবস্থা তার একটি স্ন্যাপশট সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪.৫% পূর্ণ গণতন্ত্রের অধীনে বাস করেন।

পূর্ণ গণতন্ত্রের দেশগুলোর তালিকায় প্রথমেই আছে নরওয়ের নাম। গণতন্ত্রের বিভিন্ন সুচকে যার মোট স্কোর ৯.৮৭। এরপরে যথাক্রমে আছে, আইসল্যান্ড, যার স্কোর ৯.৫৮। সুইডেন, ৯.৩৯। নিউজিল্যান্ড, ৯.২৬। আয়ারল্যান্ড ৯.১৫। কানাডা ৯.১৫। অস্ট্রেলিয়া ৯.০৯। ফিনল্যান্ড ৯.০৩। নেদারল্যান্ডস ৮.৮৯। লুক্সেমবার্গ ৮.৮১। জার্মানি ৮.৬১। যুক্তরাজ্য ৮.৫৩। অস্ট্রিয়া ৮.৪২। মরিশাস ৮.২২। মাল্টা ৮.১৫। উরুগুয়ে ৮.১২। স্পেন ৮.০৮।

৫৭টি দেশকে রাখা হয়েছে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’-র তালিকায়। ওই ৫৭টি দেশের ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের অধীনে আছে বিশ্বের ৪৪.৮% মানুষ। বিস্ময়কর বিষয় হলো দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং এবং ফ্রান্সকে এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বাক স্বাধীনতার ওপর হুমকির কারণে।

আর যুক্তরাষ্ট্র ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র হয়ে উঠেছে মূলত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ‘অন্তর্নিহিত দুর্দশা এবং অবিশ্বাসের সমস্যা’ সমাধান করতে পারেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুর্ণ গণতন্ত্রের তালিকায় প্রবেশ করতে পারবে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতার দিক থেকে এখনো শীর্ষস্থানে আছে।

ইআইইউ এর ওই প্রতিবেদনের সম্পাদক জোয়ান হোয়ি বলেন, সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী বাকস্বাধীনতার বিষয়টি তিন স্তরের হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। প্রথমত, গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক বা কর্তৃত্ববাদি রাষ্ট্রগুলো মানহানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, ধর্ম অবমাননা প্রতিরোধমূলক আইনের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার টুটি চেপে ধরছে।

আর দ্বিতীয়ত, অরাষ্ট্রীয় সংগঠন, যেমন ইসলামি জঙ্গি, অপরাধী চক্র এবং কায়েমী স্বার্থবাদিরা ভীতি, হুমকি এবং হত্যার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার টুটি চেপে ধরছে।

তৃতীয়ত, যারা চেতনায় আঘাত পেতে চায় না তারা দাবি করছে ‘নিরাপদ স্পেস, ‘সতর্কতা জারি’, ‘ঘৃণা বক্তব্য’ বিরোধী আইন এবং সামাজিক গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দাবির মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার টুটি চেপে ধরছেন।


Filed in: বিভিন্ন সংবাদ