4:10 pm - Monday February 19, 2018

অবশেষে জানা গেল যে পরিকল্পনায় এগুচ্ছে বিএনপি

জোটের বাইরে সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। এক্ষেত্রে ডান, বাম ও মধ্যপন্থীদের যুক্ত করা হচ্ছে। তবে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে আন্দোলনে যেতে বেশ কয়েকটি দলের আপত্তি থাকায় তাদের নিয়ে আলাদাভাবে নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা হচ্ছে।

দলগুলো হচ্ছে- ‘সর্বদলীয় ঐক্যজোট’, ‘সর্বদলীয় যুক্তফ্রন্ট’, ‘গণতান্ত্রিক অ্যালায়েন্স’ ও ‘পিপলস ফ্রন্ট’। এ চারটির মধ্য থেকে যে কোনো একটি নাম শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদের দুর্নীতির ফিরিস্তি নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পরদিন শুক্রবার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিবদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রোববার জোটের বৈঠকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সরকারের দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

পাশাপাশি বলা হয়, এই দুর্নীতির ফিরিস্তি সংবলিত লিফলেট তৈরি করে তা সারা দেশে বিলি করার প্রস্তাব করা হয়। জোটের শরিক এক নেতা জানান, বৈঠকে হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ফারমার্স ব্যাংক, এনআরবিসিসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা ওই লিফলেটে স্থান পাবে। এছাড়া ‘ওয়ান ইলেভেন’ সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিসহ সব স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য থাকবে ওই লিফলেটে।

এ ব্যাপারে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা জানান, এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ শেষ করেছেন তারা। সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দুর্নীতির ফিরিস্তি যে কোনো সময় লিফলেট আকারে দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলায় পাঠিয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে তা দলীয় নেতাকর্মীদের ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা প্রচারের আহ্বান জানানো হবে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা ও অন্যান্য মামলার বিষয়ে আজ আবারও বিদেশি কূনীতিকদের ব্রিফ করবে বিএনপি। বিকাল ৪টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সব দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং বিদেশি সংস্থাগুলোর কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের এক সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার মামলা, সাজা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করবেন বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা।

বিএনপির একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক সোমবার বলেন, ২০ দলীয় জোটকে নিয়ে একই সঙ্গে এ যুগপৎ আন্দোলনে নামতে চায় দলটি। এক্ষেত্রে যেসব দল একতরফা নির্বাচন চায় না, আইনি শাসনে বিশ্বাস করে ও গণতন্ত্র চায়, তাদের প্রথমে জোটে আসার জন্য অনুরোধ করা হবে। যদি কেউ ২০ দলীয় জোটে আসতে না চায়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলকে প্রস্তাবিত নতুন জোটের ব্যানারে রেখে একই প্লাটফর্মের মাধ্যমে আন্দোলন সফল করার টার্গেট বিএনপির। রোববার জোটের বৈঠকেও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেন জোটের নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। আর এ ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন যাতে না হতে পারে, সেজন্য সরকারের বাইরের ডান, বাম, মধ্যপন্থী- সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। এজন্য দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন। তবে কোন সমীকরণে তা চূড়ান্ত হবে, এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করবেন।

এছাড়া বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকারবিরোধী জনমত তৈরি করতে তৃণমূল সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে। শিগগিরই জোটের নেতারা বিভাগীয় শহরসহ সব জেলায় সফরে বের হবেন।


Filed in: রাজনীতি