4:10 pm - Monday February 19, 2018

এজন্য বিএনপির উচিত আওয়ামীলীগ সরকারকে ধন্যবাদ দেয়া!

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ঢাকায় গত সোমবার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচির মতো দলীয় কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

গেল এক দশকে এতো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন কি তারা সংগঠিত করতে পেরেছে কখনো! দেশে আইনের শাসন তো বটেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার যে মাইল ফলক বাংলাদেশের ইতিহাসে সূচিত হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়ার মধ্য দিয়ে তাতে আখেরে কি তাদেরই লাভ হলো না? জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে দলের জন্য শক্তি প্রদর্শনের এতো বড় সুযোগ কি মিলত কখনো প্রায় ভঙ্গুর এই দলটির ভাগ্যে?

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পুত্রের স্বেচ্ছাচারিতা আর দুর্নীতিতে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে যে ‘সেতার ছিড়ে বেতার অবস্থা’ তা থেকে খানিকটা হলেও তো স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে এই ক’দিনের নানান ঘটনায়।

বয়সে অনুজ কিন্তু মহাক্ষমতাধর কেউ একজনের সীমাহীন বেয়াদবির কারণে বিএনপির সত্যিকারের নেতারা যে যোজন যোজন দূরে চলে গিয়েছিলেন তাদের আবারো মাঠের রাজনীতিতে একই কাতারে দাঁড়াতে দেখে আমার শুধু বারবার মনে হচ্ছে তারা নিশ্চয়ই মনে মনে এসবের জন্য আওয়ামীলীগ সরকারকেই ধন্যবাদ দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে না হলেও অনেক দলীয় নেতাকর্মীই যে বেশ খানিকটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব আর সাহসিকতার কারণে তা তো তাদের চোখে মুখেই ফুটে উঠছে।

কেউ কেউ অবশ্য প্রকাশ্যে টক শোতে বলেই ফেলছেন সেসব কথা অকপটে; তাতে আমি দোষের কিছু দেখিনা। এটি দলে শিষ্টাচার বর্হির্ভূত তো নয়ই আমার কাছে এটি একটি সভ্য রাজনৈতিক চর্চাও বটে।

আমি আশাবাদী, আওয়ামীলীগ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জেলাভিত্তিক প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে এরই মাঝে, দলীয় সভানেত্রী তার প্রতিটি জনসভায় দলের অবস্থান দেশের অবস্থান তুলে ধরে আবারো নৌকায় ভোট চাইছেন, হয়তো অচিরেই বিএনপিও একই পথে হাঁটবে, লড়ে চড়ে বসেছে জাপাও, একই মোশনে আছে জাসদ, সিপিবিসহ বাম ঘরানার দলগুলোও।

আর এভাবেই মূলত নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনলো বর্তমান সরকার। আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ধন্যবাদ আওয়ামীলীগ সরকারকেও।

বিএনপির এক সময়ের ডাকসাইটে নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতে বলে আসছেন, শুধুমাত্র তারেক জিয়ার বেয়াদপির কারণে আজ বিএনপির এই বেহাল দশা। বিএনপির বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে বেশিমাত্রায় নির্ভরশীলতারও তুমুল নিন্দা করেন তিনি।

অকপটে বলেন, নিজের দলেই গণতন্ত্র নেই, সব তারেকের কাছে জিম্মি! নিশ্চয়ই এই জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে আসার এই সুযোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন আখতারুজ্জামানের মতো অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতারা, হয়ত মনে মনে শেখ হাসিনার সাহসী সরকারকেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তারা।

বিএনপির এন্টি-মিডিয়া পলিটিকসেরও নিন্দা জানান এই নেতা।

পেট্রোল বোমা নয়, জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে এগিয়ে আসার আহবানও জানান তিনি।

বিএনপির উচিত এই সুযোগে অতীতের সব ভুল শুধরে আওয়ামীলীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবারে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির রাইট ট্র্যাকে ফেরত আসা। বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে শ্যামাগীত না গেয়ে জনসাধারণের কাছে গিয়ে ঠিক সোমবারের মতোই জারি-সারি, ভাটিয়ালি-ভাওয়াইয়া চর্চা করা।


Filed in: রাজনীতি