11:39 am - Tuesday February 20, 2018

ভালোবাসা দিবস, প্রকাশ্যে চুমু এবং কনডম বিতর্ক

এক.
বাংলাদেশে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি বেশ শক্তভাবে গেড়ে বসেছে বুঝা যাচ্ছে। বিগত ২০ বছরে যদি বাংলাদেশের সামাজিক কিছু পরিবর্তনের কথা বলতে হয়, তাহলে এই দিবসটির কথা আসবেই। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা যে এই দিবসটিকে ঘিরে বাড়তি কিছু পরিকল্পনা করে থাকে, সেটা তাদের ফুল কেনা এবং ঘুরাঘুরি থেকেই টের পাওয়া যায়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি সব বিবর্তনকে ১০ বছর মেয়াদী ভাগ করে দেখে থাকি। সেই একই সূত্র যদি এক্ষেত্রে প্রয়োগ করি, তাহলে ১৯৯০-১৯৯৯, ২০০০-২০০৯ এবং এখন ২০১০+ আরেকটি দশকের মাঝপথে রয়েছি। গত শতাব্দীর শেষ দশকে এসে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি পালন করতে শুরু করে এই দেশের মানুষ। তার আগে যে এই দিবসটি ছিল না, তা নয়। তবে এটাকে যে একটি দিবস হিসেবে পালন করা যায়, সেই আইডিয়াটি নিয়ে আসেন তৎকালীন সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান। তারপর অবশ্য অনেকেই এই মিছিলে যোগ দিয়েছেন। এবং এখন তো বেশ বড়সড় করেই তা পালিত হচ্ছে।

পৃথিবীতে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস কীভাবে চালু হলো, সেই ইতিহাসে আমি যাচ্ছি না। তবে বাংলাদেশে ১৯৯০ সালের পর যাদের জন্ম, তারা এই দিবসটিকে সাথে নিয়ে বড় হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ এখন তরুণ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে পড়ছে; কেউ কেউ হয়তো পাশ করে চাকরি জীবনে প্রবেশ করেছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে ভালোবাসা দিবসের যে অর্থ, তার আগের জেনারেশনের কাছে তার অর্থ ভিন্ন হবে। এখানে পরিষ্কার দুটো দলে আমাদেরকে ভাগ করা যাবে। এবং এদের চিন্তা-ভাবনারও পরিষ্কার পার্থক্য করা যাবে। তাই ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে আমাদের এত মতপার্থক্য।

পৃথিবীর এই অঞ্চলের মানুষদের ভাব প্রকাশ একটু ভিন্ন ধরনের। যেমন ধরুন, এই অঞ্চলে কেউ মানসিক কষ্ট পেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ ‘মাতম’ করে থাকে। তারা চিৎকার করে তাদের শোককে প্রকাশ করে। কেউ কেউ বলে থাকেন, এই এলাকায় আগে বর্গীরা রাতে এসে গৃহস্থের সম্পদ নিয়ে যেত। তখন আশে-পাশের মানুষকে ডেকে একত্রে করার পদ্ধতি ছিল এই ‘মাতম’ করা। ব্যক্তিগতভাবে চিৎকার করে শোক প্রকাশের যে রীতি আমাদের জীবনযাত্রায় যুক্ত হয়ে গেছে, তার বিপরীতে সামাজিকভাবে শোক প্রকাশের রীতিটি কিন্তু তৈরি হয়নি। যেমন আমাদের বড় বড় শোক দিবসগুলোর কথা যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখব একুশে ফেব্রুয়ারি একটি শোক দিবস। আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে মারামারি ধাক্কাধাক্কি করি।

তবে সম্মিলিতভাবে আনন্দ প্রকাশের রীতিগুলোতে এই অঞ্চলের মানুষ খুব সিদ্ধহস্ত। আমাদের প্রচুর আনন্দের দিন। আমরা ধনী জাতি হতে না পারি, কিন্তু আনন্দ প্রকাশে আমাদের চেয়ে ধনী আর কে আছে! আমাদের আনন্দের দিনগুলোতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঢল নামে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে, পয়লা বৈশাখ, বিজয় দিবস ইত্যাদি দিনগুলোয় মানুষের তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এই অঞ্চলের মানুষ উৎসব পাগল। সেই উৎসবের তালিকায় আরেকটি নতুন দিন যোগ হয়েছে- ভালোবাসা দিবস। সেটা তো মানুষ পালন করবেই।

দুই.
ভালোবাসা দিবসকে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উৎসবের তালিকায় নিয়ে ফেললেও, সবাই তা পারেননি। তার একটি কারণ আগেই বলেছি- দুটো ভিন্ন জেনারেশন এক সাথে বসবাস করছে। দুটো বিপরীত স্রোত।

পাশাপাশি আরেকটি কারণ রয়েছে, যা আমাদের মনস্তত্ত্বে দীর্ঘদিন ধরে আছে। বন্ধু সাইকা শারমিন আমার পুরনো একটি লেখার নীচে এসে খুব সুন্দর করে কিছু কথা মন্তব্য আকারে লিখে গিয়েছিলেন। আমি তাকে কোট করছি- ‘আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরই বয়ঃসন্ধিকালটা কাটে এতিমের মতো, কনফিউজড একটা মনোজগতে; সবকিছু নিয়ে লুকোছাপা একটা অবস্থায়। থিওরি আর প্রাকটিকালের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না। এখানে কিশোর-কিশোরীদের বন্ধুত্ব এখনও বাবা-মায়ের চোখে অপরাধ; কিন্তু তারাই আবার একটা কিশোরীকে বিয়ে দিয়ে মধ্যবয়স্ক লোকের বিছানায় পাঠিয়ে দেয় খুব সহজেই। নিজের বউকে প্রকাশ্যে পিটালে তা পারিবারিক ব্যাপার আর আদর করলে তা অপরাধ। সিনেমায় চুমুর দৃশ্য থাকলে সেন্সর বোর্ড আটকে দেয়; কিন্ত দুই চারটা রেপ সিন কোনো ব্যাপার না। একটা মেয়ের পিরিয়ড নিয়ে কথা বলা অশ্লীলতা, কিন্ত এক ঘরে দুই বউ নিয়ে থাকা জায়েজ। এমন বিচিত্র সব সামাজিক ও ধর্মীয় টাবুতে জর্জরিত আমরা। একদিকে কড়া শাসন অন্যদিকে চোখের সামনে বিকৃত সব প্রাকটিস। হাতের নাগালে অশ্লীল সব উপাদান যা তৈরি করছে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ এক একটি মানুষ। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের সাথে খোলামেলা কথা বলতে একেবারেই অভ্যস্ত নন। কাউন্সেলিং-এর চেয়ে বকাবকি মারধরেই তারা বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করেন।’

বন্ধুটি আমার মনের কথাগুলোই বলে গিয়েছে। আমাদের সমাজে অনেকগুলো বৈপরীত্য রয়েছে, যা নিয়ে আমরা বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছি। আমরা প্রকাশ্যে একটি মেয়ের গায়ে হাত তুলতে পারি। তাতে কোনোও সমস্যা হয় না। কিন্তু প্রকাশ্যে একটি মেয়ের হাত ধরে হাঁটতে অনেকের চোখে বাঁধবে। একটি ছেলে আর একটি মেয়েকে রিকশায় কিংবা কোনোও রেস্টুরেন্টে, নয়তো কফি শপে এক সাথে দেখলে আমাদের কল্পনার জগৎ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আমরা সহজাত বিষয়গুলোতে সহজে নিতে পারি না।

তবে পরিবর্তন হয়েছে অনেক, হচ্ছে এবং আরও হবে। আমি যদি আমার জীবন দিয়ে সময়টাকে ভাগ করি তাহলে দেখা যাবে, আমার মা-বাবার সময় তাদের বিয়ে হয়েছে একদম না দেখে। ছেলে মেয়েকে দেখবে, এটা কল্পনাই করা যেত না। পরিবার থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত হতো। বাসর রাতে গিয়ে প্রথম দেখা। তারপর সেটা নিয়েই জীবন কাটিয়ে দেওয়া। আমার জীবনে এসে মেয়েকে দেখার মতো সৌভাগ্য আমাদের জেনারেশনে অনেকের হয়েছে। ছেলেমেয়ে এক সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরাঘুরি করতে পেরেছে। এবং নিজেরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। এটা ওই সময়ের অনেকেই পেরেছেন। আর বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তাদের জীবন অনেক দ্রুত। তারাই মূলত ওই ‘ভালোবাসা দিবস’-এর সাথে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম। তাদের ভালোবাসার প্রকাশ অনেক বেশি খোলামেলা। তারপর ফেসবুক হওয়ায় সেটা আরো বেশি উন্মুক্ত হয়ে গেছে। তারা খুব সহজেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে পারেন ‘ফিলিং লাভড’।

‘ফিলিং লাভড’ বলতে পারাটাই সহজাত। মানুষ তার ভালোবাসাকে প্রকাশ করতে চাইবে, এটাই সহজাত বিষয়। সেটা তার চোখের পলকে হোক, তার শরীরের কোনো অঙ্গভঙ্গিতে হোক, ছাপানো কার্ডে হোক, ডায়রির পাতায় হোক কিংবা ফেসবুকের স্ট্যাটাসে হোক। এই পরিবর্তনটুকু স্বাভাবিক। আজ থেকে ৫০ বছর পর এই প্রকাশগুলো হয়তো আরও সোজাসাপ্টা হবে। এত লুকিয়ে করতে হবে না এবং বিতর্কগুলোও কমে যাবে।

তিন.
এবারে ভালোবাসা দিবসের একটি বড় বিতর্ক হলো প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া ঠিক কি না! প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া নিয়ে এমনভাবে আলোচনা হচ্ছে, ওটা দেখলে মনে হবে দেশে হয়তো নতুন একটি আইন চালু হতে যাচ্ছে, তারই জন্য বিতর্ক।

একজন দুজন নয়, অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা নিয়ে আলোচনা করছেন। এই আলোচনা দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমরা আসলে অনেক সুখে আছি। আমরা এতই সুখে আছি যে, এখন আমাদের সময় এসেছে প্রকাশ্যে চুমু খাব কি খাব না, সেটা নিয়ে আলোচনা করার। এটা এতটাই ভাইরাল হয়েছে যে, আমি নিজেও এক প্যারাগ্রাফ লিখতে বাধ্য হলাম।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ চিন্তা-ভাবনাগুলোই সেক্স কেন্দ্রিক। তাই প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার কথা আনতে গিয়ে কেউ কেউ প্রকাশ্যে সেক্স করাকেও নিয়ে এসেছেন। সেক্স হলো দুটি মানুষের ভালোবাসার চরমতম বহিঃপ্রকাশ (এক্সট্রিম এক্সপ্রেশন অফ লাভ)। কিন্তু সেই ‘ডেড এন্ডে’ যাওয়ার আগে মানুষের আরো হাজারও বহিঃপ্রকাশ থাকে। পৃথিবীর যেকোনোও প্রেমিক প্রেমিকাই সেগুলো ব্যবহার করতে চাইবে। এটাই সহজাত।

বাংলাদেশ যেভাবে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে তাতে বলে দেয়া যায়, সেই দিন খুব বেশি দূরে নয় যখন ভালোবাসার মানুষকে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া যাবে। আমাদের আর তিন/চার জেনারেশন পরেই তাদের ধ্যান-ধারণা ভিন্ন হবে। তাদের যদি প্রকাশ্যে চুমু খেতে ইচ্ছে করে, তাহলে তারা সেটা করবে। যেমন আমরা প্রকাশ্যে হাত ধরতে পারতাম না, এখনকার ছেলেমেয়েরা পারছে। একই নিয়মে এগুবে এই সামাজিক পরিবর্তন।

চার.
এবারের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে একটি কনডম ব্র্যান্ড বিশেষ ছাড় দিয়েছে। এবং সেটা নিয়েও দেখলাম বিশাল সমালোচনা। বিশেষ দিনে বিশেষ ছাড়ে কনডম বিক্রির সমালোচনা করে বলা হচ্ছে, এটা দিয়ে সমাজে অবাধ যৌন সম্পর্কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একদল তরুণ সাংবাদিক এটা নিয়ে রিপোর্ট করতে নেমেছে। আমি তাদের থামিয়ে দিলাম।

আমি তাদের যুক্তি শুনে হাসব না কাঁদবে বুঝতে পারছিলাম না। ব্যাপারটা কি এমন যে, কনডমে বিশেষ ছাড় আছে বলেই আমি এখন কনডম কিনতে দোকানে চলে গেলাম! এটা কি এমন একটি পণ্য যে, কোমল পানীয়ের মতো বিশেষ ছাড় থাকলে ভরা পেটেও আরেক বোতল খেয়ে ফেললাম! ব্যাপারটা কি এমন যে, কনডমের মূল্যে বিশেষ ছাড় আছে বলে কাল বিয়ে করে ফেললাম? আর কাউকে বিয়ে করতে না পারলে পার্টনারকে বুঝিয়ে কনডমগুলো ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু করে দিলাম? বিষয়টা কি এমন যে, প্রয়োজন নেই তবুও বাড়তি কিছু কিনে রাখি?

সমালোচকদের পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে ভালোবাসা দিবসে ছাড় কেন? এই ছাড়টি দিয়ে তারা কী বুঝাতে চাইছেন? অন্য কোনোও উৎসবে নয় কেন?

পণ্য প্রমোশনের নানান ধরনের মার্কেটিং টেকনিক থাকে। অন্য বিশেষ দিনে এই ছাড়টি দিলে বিষয়টি কারও নজরে আসত বলে মনে হয় না। এখন তো অসংখ্য মানুষ এটা নিয়ে কথা বলছে। আর এটা নিয়ে রিপোর্ট করলে তো ষোলকলা পূর্ণ হলো। মার্কেটিং-এর ফর্মূলা অনুযায়ী খুবই ভালো সময়ে সঠিক প্রমোশন। আমাদের সমস্যা হলো চিন্তায়। ঈদের সময় বিশেষ ছাড়ে মোবাইল ফোন কিংবা সিম কার্ড বিক্রির অফার থাকলে আমরা সহজভাবে নেই, কোরবানির সময় ফ্রিজের উপর বিশেষ ছাড় দিলে আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি। কিংবা খেলার সময় টিভিতে বিশেষ ছাড় দিলে আমরা নতুন টিভি কিনি। যাদের টিভি প্রয়োজন তারাই নিশ্চই কিনেন। যাদের প্রয়োজন নেই, তারাও কি তখন গিয়ে টিভি কিনে নিয়ে আসেন? ভালোবাসা দিবসে কনডমে বিশেষ ছাড় দেয়ার অর্থ হলো, আপনার প্রয়োজন হলে এটা কম দামে কিনুন। প্রয়োজন নাই, তো এটা নিয়ে বাড়তি কথারও দরকার নাই।

তারপরের প্রশ্ন হলো, তাহলে কি এই দিবসটির সাথে যৌনতার সম্পর্ক আছে? তারা কি সেটাকে প্রমোট করছেন না?

আমার উত্তর হলো, যৌনতা হলো একটি সহজাত বিষয়। এটা যেকোনোও সক্ষম মানুষই করতে চাইবে, যেভাবে সে প্রাত্যহিক জীবনে ভাত খায়, কাপড় কেনে, অফিসে যায় এবং বাজার করে। তবে বিয়ে করে সেক্স করছে কি না, সেটা নিয়ে আমাদের এক ধরনের টাবু আছে। কিন্তু তার সাথে কনডমের কোনোও সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। ভালোবাসার সবচে’ এক্সট্রিম এক্সপ্রেশন যেহেতু সেক্স, সেক্ষেত্রে ভালোবাসার দিবসের সাথে সেক্সের একটি সম্পর্ক তো আছেই। সেটাকে কী অস্বীকার করা যাবে!

তবে সব কিছুর উপরে হলো মানুষের জীবন। এর চেয়ে দামি কিছু হতে পারে না। বাংলাদেশে এবং বিশ্বে এইডস নিয়ে যারা কাজ করেন তারা জানেন, কী সাংঘাতিক রূপে এই রোগটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ এর থেকে বাইরে নয়। বাংলাদেশের যে যুবক কনডম ব্যবহারের প্রচারণাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখছে, তার কোনোও ভাই-বোন কিংবা কাছের মানুষের যদি এই রোগটি হয়, তখন তারা বুঝতে পারবেন জীবনের মূল্য কত। আমি নিশ্চিতভাবে লিখে দিতে পারি, যদি কোনোও যুবক এইডস রোগে আক্রান্ত হয়, তার মা-বাবা তখন চিৎকার করে বলবেন, বাবা তুই কনডম ব্যবহার করলি না কেন! ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া এই মাতমের আর কোনোও মূল্য সেই যুবকের কাছে নেই।

স্রষ্টা যেন কখনও কাউকে এমন বিপদে না ফেলেন।

পাঁচ.
একদল তরুণ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ?

কোনোও সমাজে কোনটি ভালো আর কোনটি খারাপ তা আপেক্ষিক বিষয়। এর কোনোও নিরঙ্কুশ উত্তর নেই। এটাই সোশ্যাল সায়েন্স। এই গ্রহের একটি জাতি আছে যারা তাদের বৃদ্ধ পিতাকে মেরে খেয়ে ফেলে। তারা ভাবে, মানুষটি তো কিছুদিন পর এমনিতেই মারা যাবে। তাহলে আমরাই কাজটি করে ফেলি না কেন! সাথে কিছু মাংশও পাওয়া গেল। আর আমরা পিতার এক দিন আয়ু বাড়ানোর জন্য কত কিছুই না করে যাই! আমাদের চোখে আমাদেরটা ভালো, তাদের চোখে তাদেরটা।

প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া ভালো না খারাপ? বিয়ের আগে সেক্স করা ভালো না খারাপ? এগুলো খুবই ব্যক্তিগত রুচির বিষয়। এর কোনোও সরাসরি উত্তর হতে পারে না। তবে ধর্মীয় অনুশাসনে এগুলোর নিষেধ রয়েছে। আর যারা ধর্মকে কঠিনভাবে মেনে চলেন না, তাদের নিজস্ব রুচি যেভাবে তাদেরকে পরিচালিত করবে, তারা সেভাবেই চলবেন। এটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমাদের ভালো লাগা, কিংবা না-লাগা তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা সঠিক হবে না।

আপনার রুচিতে ভালো লাগলে আপনি করবেন, আর না লাগলে করবেন না। কিন্তু অন্যের রুচিকে জোর করে প্রভাবিত করার কোনোও অর্থ হতে পারে না। আমরা আগে মেয়েদের জোর করে বিয়ে দিতে দিতাম। অনেক জায়গায় এখনও বিষয়টি চালু রয়েছে। এটা যেমন বর্বর কাজ, নিজের পছন্দ অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়াটাও তাই। সমাজের সবাই যদি পাল্টে যায় সেখানে অল্প কিছু মানুষের কথায় কিছু আসে যায় না। সমাজ চলে সংখ্যাগরিষ্ঠদের দিয়ে, সংখ্যালঘুদের দিয়ে নয়।


Filed in: লাইফ স্টাইল