11:39 am - Tuesday February 20, 2018

৫০ বছরে যা ঘটেনি, খালেদাকে কারাগারে রাখাতে তা-ই ঘটল হযরত মাক্কুশা বাবার মাজারে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‍পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলার রায়ের পরে খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ওই দিন থেকেই কারাফটকের আশপাশের গলির মুখে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছিল পুলিশ। যার কারণে ওই এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। সেই সাথে বন্ধ করে দেয়া হয় হযরত মাক্কুশা বাবার মাজার শরিফ। অবশ্য ১২ জানুয়ারি, সোমবার থেকে সেটি আবার খুলে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে যাওয়ার রাস্তায় ফখরুদ্দিন বিরিয়ানির একটু আগেই রয়েছে হযরত মাক্কুশা বাবার মাজার শরিফ। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার দিন থেকেই দোকানপাটের সাথে সাথে ওই মাজারের গেটেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য আজ (সোমবার) বিকেল থেকে তল্লাশি চৌকি কারাফটকের একটু কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াতে মাজারের মূল দরজাটি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাজারের বর্তমান খাদেম নাসরুল্লা মিয়া।

মাজারের খাদেম নাসরুল্লা মিয়া বলেন, ‘বাবা রে, প্রায় দেড়শো বছর ধরে আমার দাদা, আমার বাবা এই মাজারের খাদেম ছিল। বাবা মারা যাবার পরে আমি ৫০ বছর ধরে এখানে খাদেম হিসেবে আছি। এই ৫০ বছরে কেউ কোনোদিন মাজার বন্ধ করে রাখে নাই। এবার খালেদা জেলখানায়, পুলিশ আইস্যা ৪ দিন ধরে মাজার বন্ধ করে রাখছিল, আজকে খুলে দিছে। এই জেলে কত বড় বড় মানুষ ছিল। কত রাজাকারের ফাঁসি দেওয়া হইছে, তখন হয়তো ২-৩ ঘণ্টার জন্য মাজার বন্ধ ছিল। কিন্তু এইবার খালেদাকে জেলে নিয়ে আইস্যা চার-পাঁচ দিন মাজার বন্ধ করে দিছিল। যা আমার এই ৫০ বছরে কোনোদিনই হয় নাই।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসাসংলগ্ন প্যা‌রেড মা‌ঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।


Filed in: রাজনীতি