8:55 am - Wednesday December 13, 2017

এই গুণগুলোর অধিকারী হয়ে থাকলে আপনি একজন অসাধারণ মানুষ!

পৃথিবীতে সকলে একরকম হবে না আর সেটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু হ্যাঁ, আমাদের সর্বদাই জানতে ইচ্ছে করে নিজের ব্যক্তিত্বের নানান রকমের বিষয় সম্পর্কে। আমরা কি খুব গড়পড়তা? নাকি দারুণ কেউ? নাকি আমাদের কারো মাঝেই লুকিয়ে আছে বিচিত্র কোন জটিলতা? আজকের ফিচার তেমনই বিষয়ে। আজ আমরা জানবো বিরল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এক রকম ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে।

বিচিত্র, জটিল এবং কোন না কোনভাবে দ্বন্দযুক্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে যাদের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে তাদের বলা হয়ে থাকে আইএনএফজে (INFJ)।
সুইস সাইকোলোজিষ্ট ও সাইকোঅ্যানালিষ্ট কার্ল জুং তার ‘সাইকোলোজিক্যাল টাইপ’ বইতে মোট ১৬ ধরণের চারিত্রিক ধরণের কথা উল্লেখ করেছিলেন। যার মাঝে এই আইএনএফজে হলো সবচাইতে বিরলতম একটি চারিত্রিক ধরণ।

ভাবছেন আপনি নিজেও এই বিরলতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কিনা? খুব সহজ ও স্পষ্ট এই বৈশিষ্ট্যগুলো মিলিয়ে নিন তবে।

১/ একেবারে ছেলেবেলা থেকেই আপনি অন্যরকম অথবা আলাদা বোধ করেন নিজেকে। পরিচিত গণ্ডির সকলের মাঝে থেকেও এমন অনুভূত হয় আপনার। যদিও আপনার অনেক বন্ধু রয়েছে, কিন্তু আপনি কখনোই তাদের মাঝে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেন না। কখনো কখনো আপনি মিথ্যা অভিনয় করেন যেন তারা আপনাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।

২/ আপনি সত্যিকার অর্থেই মানুষের জীবন সম্পর্কে জানতে চান। এই জানতে চাওয়া মানে এই নয় যে, গেলো ছুটির দিনে তারা কী করেছেন অথবা সর্বশেষ কী কেনাকাটা করেছেন।

আপনি তাদের জীবন সেই কথাগুলো জানতে চান, যা অন্য কেউ জানেন না। আপনার সামনে বসে থাকা মানুষটা আসলে কী ভাবছেন? সে আসলে অনেক অনুভব করছেন? মিথ্যা মুখোশ দ্বারা কেউ আপনাকে সহজে বোকা বানাতে পারেন না।

৩/ যে কোন কিছু নিয়েই অনেক আটঘাট বেঁধে পরিকল্পনা করার পরিবর্তে হালকাভাবে পরিকল্পনা করার দিকে অথবা একেবারেই কোন পরিকল্পনা না করার দিকেই আপনার আগ্রহ বেশী।

৪/ আপনার কাছে যখন কেউ তাদের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা নিয়ে আসেন, আপনি নিজ থেকে কোন উপদেশ কিংবা মতামত দেন না। এর পরিবর্তে আপনি তাদেরকে সাহায্য করার জন্য এবং আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য প্রশ্ন করেন, তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান এবং তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেন। মাঝে মাঝে তাদের অবস্থার সাথে মিল আছে এমন কোন ঘটনা তাদেরকে বলেন, যা আপনার জীবনে ঘটেছিল।

আপনি অনুভব করতে পারেন যে, তাদের কোন পথ বেছে নেওয়া উচিৎ। কিন্তু আপনি কখনো চান না আপনার উপদেশের কারণেই তারা সেই পথটি বেছে নিক। কারণ, আপনি চান এটা তাদের নিজের সিদ্ধান্ত হোক।

৫/ আপনি একইসাথে অনেক বেশী চুপচাপ ও অন্তর্মুখী, অন্যদিকে আনন্দ-উল্লাস করতেও পছন্দ করেন। এই সকল কিছুই নির্ভর করে আপনার মনের অবস্থা, ইচ্ছা, শক্তি এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাদের সাথে আপনি থাকবেন তার উপরে।

৬/ আপনি একা থাকতে পছন্দ করেন, কিন্তু খুব বেশী সময়ের জন্য একা থাকাও আপনার জন্য সম্ভব নয়। দিনশেষে আপনাকে ঠিকই ‘আপন মানুষ’-দের সাথে আবারো মিশতে হয়। এই ‘আপন মানুষ’ হলেন তারা, যারা আপনার খুব ভালো বন্ধু এবং আপনাকে বুঝতে পারেন। তাদের সাথে গভীর কথাবার্তাগুলো হয় একেবারে অমূল্য। একইসাথে তাদের সাথে সময় কাটালে মানসিক শক্তি বেড়ে যায় অনেকখানি।

৭/ যারা বারবার কষ্ট দেয়, তাঁদেরকে জীবন থেক আজীবনের জন্য বাদ দিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে আপনার মাঝে। কিন্তু ব্যাপারটা এমন নয় যে, জীবন থেকে এমন মানুষদের সরিয়ে দিতে আপনি আনন্দ পান। বরঞ্চ এমনটা আপনাকে করতে হয় নিজেকে রক্ষা করার তাগিদেই! বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যে আপনি খুব শক্ত মানসিকভাবে।

কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনি খুব বেশী স্পর্শকারত একজন মানুষ। বিশেষ করে অন্য মানুষের নেতিবাচক কথা ও কাজ আপনার উপরে খুব সহজেই প্রভাব ফেলে থাকে।

৮/ মাঝে মাঝে আপনি অন্যকে খুশি ও সুখী করার জন্য এতো বেশী চেষ্টা করেন যে, নিজের খুশি ও আনন্দের ব্যাপারে একেবারেই ভুলে যান!

৯/ আপনি খুব সূক্ষ্মভাবে অনুভব করতে পারেন কেউ কেমন বোধ করছেন এবং আপনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে তার কী প্রয়োজন আপনি জানেন! হ্যাঁ, সবসময় আপনি একদম সঠিক হন না। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার ধারণা মিলে যায়।

১০/ আপনি বিশ্বাস করেন যে, ধরা-বাঁধা কাজকর্ম করার চাইতেও আপনি অনেক ভালো কিছু করার জন্য পৃথিবীতে এসেছেন। আপনি মানুষকে সাহায্য করতে চান এবং এই পৃথিবীটাকে একদম বদলে ফেলতে চান- শুধুমাত্র বেতনের একটি চেক পেতে চান না। সমস্যা হচ্ছে, আপনি নিজেও জানেন না যে সেই ‘বিশেষ উদ্দেশ্য’টা আসলে কী! আপনার ভেতরে সেই উদ্দেশ্যটা খোঁচালেও আপনি জানেন না কীভাবে সেটা অর্জন করা সম্ভব!

১১/ আপনি সবসময় অনুভব করেন যে জীবনে আপনার আরও অনেক ভালো কিছু করার রয়েছে। যার ফলে সবসময় নিজেকে আরো বেশি উন্নত করার মতো চেষ্টা করেন আপনি। যেমন: স্বাস্থ্যকর খাদ্য রান্না করা, নিজেকে আরও পরিপাটি ভাবে কীভাবে গুছিয়ে তোলা যায় ইত্যাদি শেখা। কখনো কখনো আপনি নিজেকে অনেক বেশী চাপ দেন একটি ‘পারফেক্ট’ জীবন পাওয়ার জন্য।

১২/ মাঝে মাঝে আপনি নিজেকে রক্ষা করার জন্য মানুষের মন যুগিয়ে চলা শুরু করে দেন। যেহেতু আপনি খুব অনুভূতিশীল, সেহেতু অন্যের কটু কথা বা সমালোচনা আপনার উপরে প্রভাব ফেলে দেয়। আপনি ভাবতে শুরু করেন, যদি আপনি তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে পারেন তবে তারা আপনার সমালোচনা করবে না।

১৩/ কোন একটি ঘরের ভেতর দিয়ে হেঁটে গেলে আপনি তৎক্ষণাৎ সেই ঘরের আবহাওয়া ধরতে পারেন। সহজে বলতে গেলে, আপনার আশেপাশের মানুষদের অনুভূতি আপনি ধরতে ও বুঝতে পারেন। তারা উত্তেজিত হলে আপনিও উত্তেজিত হন, তারা দুশ্চিন্তা করলে আপনিও দুশিন্তা করেন। যে কারণে আপনি সবসময় সকলকে শান্ত করতে চেষ্টা করেন। যেন তাদের অনুভূতি আপনার মাঝেও সংক্রমিত না হয়।

১৪/ আপনি ভালো মানের জিনিসের প্রতি সচেতন। যেটা হতে পারে খাদ্য উপাদান, ভালো জামা-কাপড় অথবা অন্য যে কোন কিছুই। আপনি এই ব্যাপারটা মেনে নিতে যতটাই অপারগ হন না কেন, এটা আপনার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আপনি সুন্দরের মাঝে থাকতে পছন্দ করেন। আপনার রুচি খুবই পরিশীলিত এবং অত্যাধুনিক। তবে আপনি স্বল্প খরুচে। দশটি মাঝারী মানের জামার পরিবর্তে আপনি দুইটি ভালো মানের জামা কিনতেই বেশী ইচ্ছুক।

 

১৫/ আপনার জীবনের সকল মানুষ সম্পর্কেই আপনি অনেক বেশী যত্নশীল। কিন্তু তারা হয়তো কখনোই আপনার অনুভূতি জানতে পারেননি, কারণ আপনি নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখেন। নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে আপনাকে বেগ পেতে হয়।

১৬/ সাধারণত আপনি ন্যায়বান, চিন্তাশীল ও সচেতন। যারা আপনাকে চেনেন না, তাদের কাছে আপনাকে নিষ্ঠুর বলে মনে হতে পারে।

১৭/ সকলে যখন বিভিন্ন ধরণের গালগপ্প অথবা সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা করতে ব্যস্ত, তখন আপনি নিজে নিজেই অনেক বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন। বাইরের জগত, টাইম ট্রাভেল, মানুষের চরিত্র ও ধরণ, জীবনের অর্থ প্রভৃতি বিষয়গুলো আপনার মাথায় খেলা করে। এইসকল বিষয় নিয়ে খুব কম সময়েই আলোচনা করেন আপনি। কারণ আপনি ভাবেন, বেশীরভাগ মানুষ আপনাকে বুঝতে পারবে না।

১৮/ নিজের কাজের তালিকা তৈরি করে সেইরূপ কাজ করার প্রতি আপনি অনেক বেশী আগ্রহ বোধ করেন। এক এক করে কাজগুলো শেষ করে চেক করার মাধ্যমে আপনি আনন্দ পান। তবে সকল কাজ শেষ করে ফেলার পরে আপনি খুব বিরক্ত হয়ে পড়েন।

১৯/ কোন বিষয়ে যখন আপনার মাঝে উদ্যম কাজ করে, তখন আপনার পথের মাঝে কোন কিছুই বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আইএনএফজের মূলমন্ত্র হচ্ছে- “অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চাইতে একটু বেশী সময় প্রয়োজন হয় মাত্র।”

২০/ অন্যান্য মানুষের কাছে আপনি খুব বিচক্ষন, বুদ্ধিমান এবং অনেকটাই আত্ম কেন্দ্রিক ধরণের একজন মানুষ। অনেকেই যে কারণে মানসিক সাহায্য ও উপদেশ পাবার আশায় আপনার কাছে এসে থাকে। এমন সময়ে আপনি খুব বিজ্ঞ একজন মানুষের মতো নিজেকে প্রকাশ করেন, যাকে প্রয়োজনের সময়ে সকলের দরকার হয়।

তবে অনেক সময় এইসকল কিছু আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়ে ওঠে। যেহেতু আপনি অন্তর্মুখী, সেহেতু আপনার ভেতরে প্রবলভাবে মনে হতে থাকে- কেন সকলেই নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে পারে না!
এবার বলুন তো, কয়টি গুণ মিলে গেলো আপনার সাথে?


Filed in: ফিচার