8:59 am - Wednesday December 13, 2017

ড. ইউনূসের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ফখরুদ্দীন

ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ। ওয়ান-ইলেভেনে আকস্মিক ভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়ে পাদপ্রদীপে আসেন। দুই বছর অনির্বাচিত, সেনা সমর্থিত সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। এখন মাকিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকতা করছেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ছিল তাঁর, বিদেশে চাকরি করলেও দেশে আসা যাওয়া ছিল।

বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে তাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও বানিয়েছিল। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের পর সেই যে গেলেন, আর ফেরেননি। খুব ঘনিষ্ঠজন ছাড়া বাঙালি কারও সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎও করেন না। ভয়ে থাকেন। যদিও তিনি বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনে তাঁর কোনো ভূমিকাই ছিল না।’

সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশ থেকে গিয়ে তিনি ড. ফখরুদ্দীনের সঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নেন। ওই অর্থনীতিবিদ গিয়েছিলেন একটি প্রস্তাব নিয়ে। প্রস্তাবটি ছিল সুশীল সমাজের প্লাটফর্ম নিয়ে।

ড. ইউনূস ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওই অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, `রাজনৈতিক বিভেদ আর হানাহানির মধ্যে একটি সুধীজনের প্লাটফর্ম থাকা প্রয়োজন। আমরা সেটা করছি। আপনাকেও রাখতে চাই।’

বিনয়ের সঙ্গে ওই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ড. ফখরুদ্দীন। বলছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সুশীল সমাজকে ঘৃণা করে। আমরা জনবিচ্ছিন্ন।’ তিনি দুবছরের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওই অর্থনীতিবিদকে বলেন, ‘সুশীল সমাজ একটা গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ। এর বাইরে কিছু দেখতে পারে না। সাধারণ মানুষ কী ভাবে, কী করে, কী চায়-এসব থেকে আমাদের দূরত্ব বিস্তর।

তিনি এও বলেছেন, ‘সরকার চালাতে গিয়ে আমি দেখেছি, আমরা যেভাবে ভাবি সাধারণ মানুষরা সেভাবে ভাবে না। আমরা যেন সাধারণ মানুষের কাছে ভিনগ্রহের জীব। রাজনীতিবিদরা নানা রকম নেতিবাচক বৈশিষ্ট সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছের।’

তিনি তাঁর সময়ে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ওই অর্থনীতিবিদকে বলেছেন, ‘আমি যখন দূর্গত এলাকায় গেলাম তখন আমি যেমন কী করব বুঝতে পারছিলাম না, তেমনি তারাও আমাকে দেখে অস্বস্তিতে পড়েছিল।’

তিনি ওই অর্থনীতিবিদকে বলেছেন, ‘আলাদা প্লাটফর্ম কখনো রাজনীতির বিকল্প হতে পারবে না। দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর এখন ‘সুশীল’ একটি গালিতে পরিণত হয়েছে।’ ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ তাঁকে উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশে রোল মডেল কমে যাচ্ছে। মানুষের সামনে ‘আদর্শ’ নেই। এজন্যই মানুষ রাজনীতিবিদদের প্রতি ঝুঁকছে।’

ওই অর্থনীতিবিদকে তিনি এসব না করে, নিজের কাজটা করার পরামর্শ দেন। ওই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টে দেবে।’ এ সময় ড. ফখরুদ্দীন বলেন, ‘এটা সময় সাপেক্ষ। জোর করে কোনো কিছু পাল্টে দেওয়া যাবে না।’


Filed in: বিভিন্ন সংবাদ