8:59 am - Wednesday December 13, 2017

সিঙ্গাপুর তারেকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক: এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব?

এরশাদের সিঙ্গাপুর সফর নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন বলা হলেও সেখানে তারেক জিয়ার

প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার বৈঠক করেছেন বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সিঙ্গাপুরে আমাদের সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট ভাই জিএম কাদের, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহুল আমীন হাওলাদার। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে কেন সঙ্গে নিলেন এরশাদ তাঁর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা নেই জাতীয় পার্টিতে।

এরশাদের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার বৈঠকের গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলেছে যখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরশাদের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

গণমাধ্যম কর্মীদের বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি জামাতের সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলন করতে পারে, ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য করতে পারে, তাহলে কেন বিএনপি এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য করতে পারবে না।’ ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন দিবসে বিএনপি কোনো কর্মসূচি পালন করেনি।

গত ৩ ডিসেম্বর এরশাদ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সেখানে গত অক্টোবরে তাঁর একটা পেসমেকার বসানো হয়েছিল। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এরশাদের সঙ্গে তারেক জিয়ার তিনজন প্রতিনিধি সিঙ্গাপুরে দুদফা বৈঠক করেছে। প্রথম বৈঠকে এশাদের সঙ্গে শুধু জিএম কাদের ছিলেন, দ্বিতীয় বৈঠকে রুহুল আমীন হাওলাদারও ছিলেন।

তারেক জিয়ার প্রতিনিধিদের তিনজন ব্যাবসায়ী এদের মধ্যে একজন তারেকের ব্যক্তিগত বন্ধু, একটি রেডিও স্টেশনের মালিক। এখন সিঙ্গাপুরেই থাকেন। বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জাপা ঐক্যের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করারও প্রলোভন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনই জাপার মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং সাংসদদের পদত্যাগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদের পদত্যাগে রাজি হলেও এরশাদ এখনই জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগে রাজি হননি। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে ঐক্যের জন্য ১৫০-১৫০ আসন ফর্মুলা দিয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি ১৫০ এবং জাপা ১৫০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

তবে, বিএনপি ১০০ আসনে জাপাকে ছাড় দিতে রাজি বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে জাপার আর্থিক লাভ কী হবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। টাকা-পয়সার লেনদেনেই সমঝোতা আটকে আছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, জাপার পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রথম শর্ত হিসেবে রংপুর সিটি নির্বাচন বিএনপিকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।

জাপা মনে করছে, বিভক্ত জাপা আর বিএনপির ত্রিমুখী লড়াইয়ে নাজুক ঝন্টু বেরিয়ে যাবেন। বিএনপি জাপাকে জেতাতে রাজি হয়েছে বলেও জানা গেছে। এই নির্বাচনের পরই আসলে বিএনপি-জাপার সমঝোতার সম্ভাবনা বোঝা যাবে।

তবে, বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘জাপার ব্যাপারে সমঝোতার কোনো কিছুই আমরা জানি না। এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা ভয়ঙ্কর ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময়ে ইউটার্ন করতে পারে এরশাদ।’

সমঝোতার খবর আওয়ামী লীগের কাছেও আছে, আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘দুই দুর্নীতিবাজের ঐক্য, ভালোই তো!’ সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার


Filed in: ক্রাইম ওয়ার্ল্ড